ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগ উঠেছে তার নিজের বাবার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বাবা আব্দুল মোতালেককে (৩২) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে ধর্ষণ মামলায় তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) তাকে আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার আব্দুল মোতালেক ময়মনসিংহের তারাকান্দা উপজেলার কামারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ভালুকা উপজেলার কাঠালী এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন।
যেভাবে সামনে আসে ঘটনা
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবারের বরাতে জানা যায়, কিশোরীটি ঢাকার কলাবাগান এলাকায় একটি বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করত। গত ২২ মে ছুটিতে বাবার সঙ্গে ভালুকার কাঠালী এলাকায় আসে সে। প্রায় এক মাস পর ২৫ জুন আবার ঢাকায় ফিরে কাজে যোগ দেয়।
সম্প্রতি কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন লক্ষ করে তার কর্মস্থলের বাসার মালিকের সন্দেহ হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে কিশোরী জানায়, ভালুকায় বেড়াতে আসার পর তার বাবা জোরপূর্বক একাধিকবার তাকে ধর্ষণ করেন। এর ফলে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বিষয়টি জানার পর বাসার মালিক কৌশলে কিশোরীর মা-বাবাকে ডেকে আনেন এবং কলাবাগান থানা পুলিশকে অবহিত করেন। পরবর্তী সময়ে অভিযুক্তকে ভালুকা মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।
মায়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি
ভুক্তভোগী কিশোরীর মা অভিযোগ করেন, গত ২২ মে তার স্বামী নিজেই মেয়েকে ঢাকা থেকে বেড়ানোর কথা বলে ভালুকায় নিয়ে আসেন। প্রায় এক মাস পর তাকে আবার ঢাকায় কর্মস্থলে রেখে যান।
তিনি জানান, জীবিকার প্রয়োজনে দিনের বড় একটি সময় তাকে বাড়ির বাইরে থাকতে হতো। এই সুযোগে ভাড়া বাসায় মেয়েকে একা পেয়ে তার স্বামী একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ তার। বর্তমানে তার মেয়ে অন্তঃসত্ত্বা।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন তিনি।
পুলিশের বক্তব্য
ভালুকা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম জানান, কলাবাগান থানা থেকে অভিযুক্তকে হস্তান্তরের পর ভুক্তভোগীর মায়ের দায়ের করা মামলায় তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া কিশোরীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শিশুটির নিরাপত্তা, চিকিৎসা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এখন গুরুত্বপূর্ণ।
