হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত দেওয়া নিয়ে যা জানাল ভারত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার পর তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে কি না—এ নিয়ে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।

এ বিষয়টি নিয়ে ভারতের জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির দক্ষিণ এশিয়া–বিষয়ক অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত আল-জাজিরাকে জানান, দিল্লি কোনো পরিস্থিতিতেই হাসিনাকে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেবে না।

তার মতে, গত এক-দেড় বছরে দুই দেশের সম্পর্ক বেশ টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে গেছে, ফলে ভারতের অবস্থান আরও কঠোর হবে।

শ্রীরাধা দত্ত মনে করেন, হাসিনার বিরুদ্ধে ঘোষিত শাস্তি তাদের জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল না। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণেও দেখা গেছে—ট্রাইব্যুনালের বিচার দেশীয় আইনের কাঠামো মেনেই হয়েছে।
তার ভাষায়, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি সবার জানা, তাই কঠোর রায়ের বিষয়টি অনেকের কাছেই স্বাভাবিক ছিল।

ওই বিশেষজ্ঞ আরও বলেন, জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর যে বর্বরতা চালানো হয়েছিল তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তখনকার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন—এমন প্রমাণও মামলায় উপস্থাপিত হয়েছে।

তিনি জানান, আওয়ামী লীগ অবশ্যই পাল্টা ব্যাখ্যা তুলে ধরবে, কিন্তু সাধারণ মানুষের মধ্যে বিশ্বাস—শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিলেন—এই ধারণাই প্রবল।

সোমবার (১৭ নভেম্বর) বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে ট্রাইব্যুনাল তার ৪৫৩ পৃষ্ঠার রায়ের সংক্ষিপ্তসার পড়ে শোনায়। দুই নম্বর অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং এক নম্বর অভিযোগে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী মামুন—উভয়ের বিরুদ্ধেও অপরাধের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে মামলার গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষ্য দেওয়ায় চৌধুরী মামুনের সর্বোচ্চ শাস্তি কমানো হতে পারে।

সূত্র: আল-জাজিরা

আপনার মতামত লিখুনঃ