নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে চলমান রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করেছেন ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। দিল্লিতে বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি ও পুলিশি আটকের ঘটনার পর তিনি একটি ভিডিও বার্তায় এসব দাবি তুলে ধরেন।
রাহুল গান্ধীর দাবির মধ্যে রয়েছে—কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, বিক্ষোভে বলপ্রয়োগের ঘটনায় জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, ওই ঘটনার জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রকাশ্য ক্ষমা প্রার্থনা এবং সংসদে শিক্ষা ও পরীক্ষাব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা।
এর আগে দিল্লিতে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে কংগ্রেসের অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিলে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ দলের কয়েকজন নেতাকে পুলিশ আটক করে। পরে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়।
আটক অবস্থায় প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় রাহুল বলেন, ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা দুর্বলতা এখন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন বারবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটছে, কেন শিক্ষার ব্যয় বাড়ছে এবং কেন সাধারণ পরিবারগুলো সন্তানদের পড়াশোনার খরচ বহন করতে হিমশিম খাচ্ছে। এসব বিষয়ে সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা হওয়ারও দাবি জানান তিনি।
রাহুল গান্ধী আরও বলেন, বিরোধী দলগুলো চায় লোকসভা ও রাজ্যসভা—উভয় কক্ষেই এ বিষয়ে আলোচনা হোক। পাশাপাশি আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও সমর্থকদের প্রতিও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষা ও নিট-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সংসদে আলোচনা করতে তারা প্রস্তুত। তবে কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং অভিযোগ করেন, কংগ্রেস আলোচনা নয়, রাজনৈতিক সংঘাতকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। তাঁর দাবি, রাহুল গান্ধীর অবস্থান আগের বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানও কংগ্রেসের সমালোচনা করে বলেন, শিক্ষার্থীদের স্বার্থের চেয়ে রাজনৈতিক সুবিধা অর্জনই বিরোধী দলের মূল লক্ষ্য। তাঁর ভাষ্য, সরকার আলোচনায় আগ্রহী থাকলেও বিরোধীরা অস্থিরতা সৃষ্টি করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে।
নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সরকার ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পাশাপাশি সংসদেও উত্তপ্ত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
