ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) ইস্যুকে কেন্দ্র করে চলমান আন্দোলনের সঙ্গে বিদেশি অর্থায়ন বা বিদেশি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে।
শুক্রবার অনুষ্ঠিত সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আন্দোলনের পেছনে বিদেশি কোনো অর্থায়ন বা আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে সরকারের কাছে নিশ্চিত তথ্য নেই। ফলে এ ধরনের অভিযোগের পক্ষে তিনি কোনো তথ্য উপস্থাপন করতে পারেননি।
চলমান আন্দোলনের সূচনা হয় গত ৬ জুন। ব্যঙ্গধর্মী রাজনৈতিক সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর উদ্যোগে কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর বিষয়টি দ্রুত আলোচনায় আসে। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ভারতে ফেরার পর আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা নেন।
পরবর্তীতে ২৮ জুন শিক্ষাবিদ ও জলবায়ু অধিকারকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করলে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয় এবং দেশজুড়ে ব্যাপক জনমত সৃষ্টি হয়।
সরকার আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা না করার আশ্বাস, সংসদে পরীক্ষা সংস্কার নিয়ে আলোচনা এবং নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর ওয়াংচুক ২৩ জুলাই টানা ২৬ দিনের অনশন শেষ করেন। তবে আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা অভিজিৎ দীপকে জানান, তাদের প্রধান দাবি এখনো কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
এদিকে ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো (পিআইবি) জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিতে তৈরি ভুয়া ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ওই ভিডিওতে তাকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে হুমকি দিতে দেখা গেলেও, পিআইবির ফ্যাক্ট-চেক অনুযায়ী সেটি সম্পূর্ণ ভুয়া এবং বিভ্রান্তিকর।
সংস্থাটি আরও দাবি করেছে, ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে পাকিস্তানভিত্তিক কিছু অপপ্রচারমূলক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট জড়িত থাকতে পারে।
এ ছাড়া কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের বক্তব্য বিকৃত করে তৈরি আরেকটি ডিপফেক ভিডিওও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে পিআইবি। পরে পীযূষ গোয়েল নিজেও এক্স (সাবেক টুইটার)-এ পোস্ট দিয়ে জনগণকে ভুয়া ও এআই-নির্মিত ভিডিওতে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানান।
