ভারতে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে একদিকে তরুণদের নেতৃত্বে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আন্দোলন, অন্যদিকে কৃষকদের বিক্ষোভ—দুই দিকের চাপ একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে প্রশাসনকে। রাজধানী দিল্লিমুখী কৃষকদের অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সীমান্ত এলাকায় কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
মঙ্গলবার হরিয়ানার শম্ভু সীমান্তে কৃষকদের দিল্লিমুখী যাত্রা থামিয়ে দেয় পুলিশ। সড়কে কংক্রিটের ব্যারিকেড, লোহার প্রতিবন্ধক ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা মোতায়েনের মাধ্যমে রাজধানীতে প্রবেশের পথ সীমিত করা হয়। এতে সীমান্ত এলাকাতেই অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন কৃষকরা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবি জানাতে চাইলেও তাদের রাজধানীতে যেতে দেওয়া হয়নি। তারা এটিকে গণতান্ত্রিক অধিকারে বাধা হিসেবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সমালোচনা করেন।
কৃষক সংগঠনগুলোর ভাষ্য, ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তির কারণে কৃষি, দুগ্ধ, ক্ষুদ্র শিল্প, ডিজিটাল বাণিজ্য, সরকারি ক্রয় এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাত ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে বিদেশি কৃষিপণ্য সহজে ভারতীয় বাজারে প্রবেশ করলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারবেন না বলে তাদের আশঙ্কা।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নেতাদের দাবি, সম্ভাব্য চুক্তির বিস্তারিত তথ্য এখনো জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। তাই সরকার যেন কোনো আন্তর্জাতিক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার আগে কৃষক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে।
তাদের আরও বক্তব্য, ভারতের দুগ্ধ খাতের সঙ্গে কোটি কোটি গ্রামীণ মানুষের জীবিকা জড়িত। এই খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়লে দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিও বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে।
এদিকে, তরুণদের নেতৃত্বে চলমান ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আন্দোলনের কারণে দিল্লিতে আগে থেকেই রাজনৈতিক উত্তেজনা বিরাজ করছে। একই সময়ে কৃষকদের নতুন কর্মসূচি রাজধানীর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তবে কৃষক সংগঠনগুলো জানিয়েছে, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তারা অনড় থাকবে।
