খাগড়াছড়িতে সহিংসতা, জরুরি সভায় যে সিদ্ধান্ত জানাল রাঙামাটি প্রশাসন

খাগড়াছড়ির সৃষ্ট ঘটনা নিয়ে রাঙামাটিতে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা প্রশাসকের অফিস কক্ষে এই জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্ল্যাহর সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার ড. ফরহাদ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জোবায়দা আক্তার, কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক দীপেন দেওয়ান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ মামুন, বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সদস্য ও রাজবন বিহারের সহ-সভাপতি নিরূপা দেওয়ান, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা জাহাঙ্গীর, রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি আনোয়ার আল হকসহ অন্যান্য।

আলোচনা সভায় শেষে থেকে জানানো হয়, খাগড়াছড়িতে সহিংস ঘটনার প্রেক্ষিতে পাহাড় জুড়ে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এনিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। গুজব ছড়িয়ে সাম্প্রদায়িক বিনষ্টকারী যেই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

চলমান দুর্গোৎসবে এই ঘটনার কোন কিছু ছড়িয়ে না পড়ে সে লক্ষ্যে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জেলা প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।

রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ বলেন, রাঙামাটি জেলার সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বড়াবড়ই ভালো। কিন্তু গুটিকয়েক দুষ্ট প্রকৃতির লোক পাহাড়ের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে চেষ্টা চালায় তাদের বিরুদ্ধে সকলকে সজাগ থাকতে হবে।

তিনি আরও জানান, রোববার থেকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গোৎসব শুরু হচ্ছে। এই দুর্গোৎসবের রাঙামাটির ৪৫টি পূজামণ্ডপে প্রশাসনের সর্বাত্মক নজরদারি রয়েছে। এছাড়া আগামী ৬ তারিখ প্রবারণা উৎসবকে ঘিরে রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন বিহারে প্রবারণা উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। এ জন্য সকলকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

রাঙামাটি পুলিশ সুপার ড. ফরহাদ হোসেন বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব রটিয়ে একটি মহল পাহাড়কে অশান্ত করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। প্রতিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আইডি আমাদের নজরদারিতে রয়েছে। রাঙামাটিতে গুজব সৃষ্টিকারী যেই হোক তার বিরুদ্ধে আমাদের কঠোর অবস্থান রয়েছে। তাই যারা এই কাজগুলো করার চিন্তা করছেন তাদেরকে সাবধান হওয়ার জন্য আহ্বান জানান তিনি।

অন্যদিকে, রোববার বিকেলে আরেক সভায় রাঙামাটির ৪৩টি স্পোর্টস ক্লাবের সম্মানিত সভাপতি, সেক্রেটারি ও অন্যান্য সুধীজনের সঙ্গে মতবিনিময় করা হয়। এ সময় নেতৃবৃন্দ নিজ নিজ পাড়া-মহল্লায় সকলের সমন্বয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় ভূমিকা পালন করবেন মর্মে জানান। তারা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার যেকোনো ধরনের প্রয়াস সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করার জন্য ও কোন ধরনের গুজবে কান না দিয়ে সকলকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ৯টায় প্রাইভেট পড়ে ফেরার পথে কিশোরীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার পর থেকে জেলায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে কয়েক দিন ধরে অবরোধ, মিছিল, সমাবেশ ও সহিংসতা চলছে।

শনিবার দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ, মহাজন পাড়া, নারিকেল বাগান, চেঙ্গী স্কোয়ার ও শহীদ কাদের সড়কে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। স্বনির্ভর ও নারিকেল বাগান এলাকায় কিছু দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। জুম্ম ছাত্র-জনতার ডাকা অবরোধ কর্মসূচিকে ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনায় ২৭ জন আহত হয়েছেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে খাগড়াছড়ি পৌরসভা, সদর ও গুইমারা উপজেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। বিজিবির সাত প্লাটুন সদস্য ছাড়াও সেনাবাহিনী ও পুলিশ শহরের বিভিন্ন সড়কে টহল দিচ্ছে।

এ ঘটনার কারণে সাজেক ভ্রমণে যাওয়া প্রায় দুই হাজার পর্যটক আটকা পড়েন। পরে বিশেষ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তারা খাগড়াছড়ি শহরে ফিরে এসে রাতেই নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হন। তবে এখনো খাগড়াছড়ির বিভিন্ন হোটেলে বিপুল সংখ্যক পর্যটক দুর্ভোগে রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুনঃ