বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সিদ্ধান্তে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর তার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না—এ প্রশ্নে রাজনৈতিক ও আইন অঙ্গনে আলোচনা শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মতামত দিয়েছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে সংসদ সদস্যের দলত্যাগের বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু বর্তমান ঘটনায় গাজী নজরুল ইসলাম নিজে দল ছাড়েননি, বরং দলীয় সিদ্ধান্তে বহিষ্কৃত হয়েছেন। এরপরও তার ব্যক্তিগত আইনগত ব্যাখ্যা হলো, এ পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকার সুযোগ নেই। তিনি জানান, দল বহিষ্কারের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করবে।
এদিকে নির্বাচন কমিশনের একজন কমিশনারও জানিয়েছেন, দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত কোনো সংসদ সদস্যকে যদি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার করে এবং প্রয়োজনীয় নথি কমিশনে জমা দেয়, তাহলে আইন ও সংবিধানের আলোকে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।
তবে নির্বাচন কমিশনের কাছে এখনো বহিষ্কারসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র পৌঁছায়নি। তাই গাজী নজরুল ইসলামের আসন শূন্য ঘোষণা বা উপনির্বাচনের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য, প্রয়োজনীয় নথি পাওয়ার পর সংবিধান, প্রচলিত আইন ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা পর্যালোচনা করে কমিশন আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানাবে।
গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে নির্বাচন কমিশনের আইনি ব্যাখ্যা ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ওপর।
