জামায়াতের সিদ্ধান্তে কী সংসদ সদস্য পদ হারাতে পারেন গাজী নজরুল ইসলাম?

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা ও তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। এ বিষয়ে নজরদারি করছে দলটি।

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে প্রকাশিত তথ্য ও অভিযোগগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের পর দলীয় গঠনতন্ত্র ও সাংগঠনিক বিধি অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

দল থেকে বহিষ্কার হলে কী এমপি পদ থাকবে?

বাংলাদেশের সংসদীয় চর্চা অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দল যদি একজন সংসদ সদস্যকে দলীয় প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করার পাশাপাশি স্পিকারের কাছে তার সংসদ সদস্য পদ বাতিলের আবেদন জানায়, তাহলে বিষয়টি সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় বিবেচিত হতে পারে। তবে শুধুমাত্র দলীয় সাংগঠনিক পদ বা দায়িত্ব থেকে অপসারণ করা হলে, স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন ছাড়া সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয় না।

অতীতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা গেছে, দলীয় সিদ্ধান্ত ও স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপের ওপর সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকা বা না থাকার বিষয়টি নির্ভর করেছে।

ভিডিও নিয়ে আলোচনা

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে গাজী নজরুল ইসলামকে এক নারীর সঙ্গে একটি কক্ষে দেখা যায়। ভিডিওটি প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।

জামায়াতের স্থানীয় নেতাদের দাবি, ভিডিওতে থাকা নারী গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী। জেলা পর্যায়ের এক নেতা জানান, এমপি তাদের জানিয়েছেন যে প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতেই দ্বিতীয় বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে।

এমপির বক্তব্য

গাজী নজরুল ইসলাম এক লিখিত বক্তব্যে জানান, গত ১৩ জুলাই তিনি তার প্রথম স্ত্রী মোছা. মাকছুদা বেগম এবং দ্বিতীয় স্ত্রী মোছা. মরিয়ম বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীর মগবাজারে দ্বিতীয় স্ত্রীর পিতার ব্যবসায়িক কার্যালয়ে যান। সেখানে তারা প্রায় এক ঘণ্টার কিছু বেশি সময় অবস্থান করেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে দলীয় তদন্ত ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে এখন সবার নজর রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুনঃ