বান্ধবীর কাছে ‘হিরো’ সাজতে গিয়ে ৪,২২৯ যাত্রীসহ প্রমোদতরী ডুবিয়ে দেন ক্যাপ্টেন!

ভূমধ্যসাগরের গিগলিয়ো দ্বীপের উপকূলে ২০১২ সালের ১৩ জানুয়ারি ঘটে এক ভয়াবহ সামুদ্রিক দুর্ঘটনা। ইতালির বিলাসবহুল প্রমোদতরী কোস্টা কনকর্ডিয়া ৩ হাজার ২০০ যাত্রী ও ১ হাজার ২৩ জন কর্মী নিয়ে চলার সময় পাথরে ধাক্কা খেয়ে ডুবে যায়। প্রাণ হারান ৩২ জন।

প্রমোদতরীটির ক্যাপ্টেন ছিলেন ফ্রান্সেস্কো শেটিনো। দুর্ঘটনার দিন তার সঙ্গে ছিলেন বান্ধবী ও সাবেক নৃত্যশিল্পী ডমনিকা সেমোর্টান। বান্ধবীর কাছে নিজের সাহসী ভাবমূর্তি তুলে ধরতে এবং সাবেক বস মারিয়ো পালোম্বোকে শুভেচ্ছা জানাতে জাহাজটিকে নির্ধারিত পথ ছেড়ে দ্বীপের কাছাকাছি নিয়ে আসেন তিনি। যদিও খবর পান যে মারিয়ো তখন দ্বীপে নেই, তবু শেটিনো নিজের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেননি।

পাথরে ধাক্কা খাওয়ার পরও যাত্রীদের আশ্বস্ত করতে থাকেন শেটিনো, বলেন— ‘তেমন কোনো অঘটন ঘটেনি।’ অথচ ততক্ষণে জাহাজের অর্ধেক পানিতে তলিয়ে গেছে। শুরুতে উদ্ধার অভিযান চালাতে অস্বীকৃতি জানান তিনি এবং উপকূলরক্ষীর সহায়তাও নেননি। প্রায় এক ঘণ্টা পর জাহাজটি ৩০ ডিগ্রি কাত হয়ে পড়লে বিপদঘণ্টি বাজিয়ে সাহায্য চাওয়া হয়। যাত্রীরা কেউ লাইফ জ্যাকেট পরে বাঁচার চেষ্টা করেন, কেউ সাঁতরে দ্বীপে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন। এ সময়ও শেটিনো যাত্রীদের ফেলে প্রমোদতরী ছেড়ে সবার আগে নিরাপদে চলে যান।

তবে সাহসিকতার পরিচয় দেন জাহাজের ভারতীয় দুই কর্মী কর্ণনাথ রমেশনা ও রাসেল রেবেলো। যাত্রীদের লাইফবোটে তুলতে গিয়ে প্রাণ হারান রাসেল। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় অধিকাংশ যাত্রীকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৩২ জন। প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় কোস্টা কনকর্ডিয়ার।

পরবর্তীতে আদালতে শেটিনো দায় চাপান সহকারী নাবিক রবার্টো বোসিয়োর ওপর। এমনকি দাবি করেন, পা পিছলে লাইফবোটে পড়ে গিয়ে নাকি তিনি জাহাজ থেকে নেমে গিয়েছিলেন। আদালত তার এসব যুক্তি প্রত্যাখ্যান করে তাকে কারাগারে পাঠায়। বর্তমানে কারাগারেই রয়েছেন এই ক্যাপ্টেন।

আপনার মতামত লিখুনঃ