ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের বিদায় নেওয়ার সময় এসে গেছে। শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর তিনি এই মন্তব্য করেন।
সম্প্রতি সরকারি বিভিন্ন নিয়োগ ও ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস এবং অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। সেই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে শনিবার (২৫ জুলাই) ধর্মেন্দ্র প্রধান শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান।
একই দিন সকালে নয়াদিল্লির নিজ বাসভবনে আন্দোলনরত কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে বৈঠক করেন রাহুল গান্ধী। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, গণতন্ত্র, সংবিধান ও নিজেদের ভবিষ্যৎ রক্ষার দাবিতে তাদের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ। তার মতে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় সংস্কারের পথে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি।
তবে রাহুল গান্ধী জানান, তাদের আন্দোলনের আরও দুটি দাবি এখনো পূরণ হয়নি। তিনি বলেন, পরীক্ষা-সংক্রান্ত সংকটের জন্য প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করা উচিত। পাশাপাশি আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনারও দাবি জানান তিনি।
রাহুল আরও বলেন, শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, কৃষক, শ্রমিক এবং সমাজের অন্যান্য বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকেও নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। তিনি দাবি করেন, জনগণের সম্মিলিত আন্দোলনের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের পরিবর্তন সম্ভব।
অন্যদিকে, পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, দেশের শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সঙ্গে চলমান আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কোনো রাষ্ট্রবিরোধী গোষ্ঠী যাতে পরিস্থিতির অপব্যবহার করতে না পারে, সে বিষয়েও তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এর আগে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-এর প্রতিনিধিরা কেন্দ্রীয় সরকারের কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকের পরদিনই শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনা সৃষ্টি করে।
শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের পর আন্দোলনের মঞ্চ থেকে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপক ভারতের প্রধান বিচারপতিকে ধন্যবাদ জানান। তার দাবি, গত ১৫ মে সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতির একটি মন্তব্য থেকেই এই আন্দোলনের সূচনা হয়। যদিও পরে প্রধান বিচারপতি স্পষ্ট করে জানান, তার বক্তব্য বেকার তরুণদের উদ্দেশে ছিল না; বরং জাল আইন ডিগ্রি ব্যবহারকারীদের প্রসঙ্গেই তিনি মন্তব্য করেছিলেন। এরপরও সেই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম হয়।
সূত্র: ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন।
