গাজীপুরে নাটকের কথা বলে মডেলকে রিসোর্টে এনে আটকে রেখে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পরিচালকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের পর রিসোর্টটিতে অভিযান চালিয়ে ২ লাখ টাকা জরিমানা ও সিলগালা করেছে জেলা প্রশাসন। প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় ১৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ।
গল ২১ সেপ্টেম্বর রাতে গাজীপুরের রাস রিসোর্টে পরিচালক নাসিরের সঙ্গে শুটিংয়ের কাজে আসেন ওই মডেল। কথা ছিল নাটকের নায়িকার চরিত্রে অভিনয় করার। তবে ভেতরে ঢুকতেই চক্ষু চড়কগাছ। আগে থেকেই অবস্থান করা দুজনকে সঙ্গে নিয়ে তার উপর চলে নির্মম নির্যাতন।
ভুক্তভোগী মডেল জানান, ‘আমাকে একটি নাটকে অভিনয় করার বিষয়ে কথা বলার জন্য রিসোর্টে এনে আটকে রাখা হয়। পরে আসামিরা মদের কাঁচের বোতল ভেঙে আমাকে আঘাত করে হত্যার ভয় দেখায়, শারীরিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করে। এতে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি আসামিরা খুবই প্রভাবশালী ও ক্ষমতাবান হওয়ায় নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে।’
এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়েরের পর মাঠে নেমেছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। শনিবার অভিযান চালিয়ে রিসোর্টিকে ২ লাখ টাকা জরিমানাও সিলগালা করার পাশাপাশি আটক করা হয় বেশ কয়েকজন কর্মচারীকে। পুলিশ জানায়, কোনরকম অনুমতি ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল রিসোর্টটি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, অভিযানে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে তাই রিসোর্টে যারা অবস্থান করছিল তাদের সবাইকেই আমরা আটক করেছি। জিজ্ঞাসাবাদের পর এই ঘটনায় যারা জড়িত মনে হবে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হবে।
শ্রীপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, অভিযানের সময় রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তাই ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তার পাশাপাশি আপাতত রিসোর্টটি বন্ধ রাখা হয়েছে।
স্বাস্থ্য পরীক্ষায়ও ওই মডেলকে ধর্ষণের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে ফরেনসিক বিভাগ। আসামিদের গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে পুলিশ।
