সুদানের পশ্চিম দারফুর প্রদেশে ড্রোন হামলায় এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা ও তার স্ত্রী নিহত হয়েছেন। এদিকে, সহিংসতা বাড়তে থাকায় ওই অঞ্চলের রাজধানী আল-ফাশের থেকে হাজার হাজার মানুষ পালিয়ে যাচ্ছে। জাতিসংঘ এবং স্থানীয় কর্মকর্তারা রবিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
উত্তর দারফুর সরকার জানিয়েছে, প্রদেশের মহাসচিব মোহাম্মদি আবদুল্লাহ এবং তার স্ত্রী শনিবার রাতে আল-ফাশেরে তাদের বাড়িতে ড্রোন হামলায় নিহত হন। কর্তৃপক্ষ এই হামলার জন্য আধা-সামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসকে (আরএসএফ) দায়ী করেছে। গভর্নর আল-হাফিজ বখিত মোহাম্মদ এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা এই দম্পতির মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করে বলেছেন, আরএসএফ-এর ড্রোন ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই তাদের মৃত্যু হয়েছে।
এই অভিযোগের বিষয়ে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, গত ১৭ থেকে ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবু শুক শিবির এবং আল-ফাশেরের বিভিন্ন অংশ থেকে কমপক্ষে সাড়ে সাত হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘের এই সংস্থাটি বলেছে, বাস্তুচ্যুত বেসামরিক নাগরিকরা শহরের মধ্যেই অন্যান্য এলাকায় চলে গেছে এবং সেখানকার পরিস্থিতি অত্যন্ত অস্থিতিশীল ও অনিশ্চিত।
এর আগে শুক্রবার, সুদানের সেনাবাহিনী আল-ফাশেরের একটি মসজিদে বোমা হামলার জন্য আরএসএফকে অভিযুক্ত করে, যেখানে ৭৫ জনেরও বেশি মুসল্লি নিহত হন। সেই অভিযোগের বিষয়েও আরএসএফ কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
চলতি বছরের ১০ মে থেকে আরএসএফ আল-ফাশের শহরটি অবরোধ করে রেখেছে। আন্তর্জাতিক মহল থেকে বারবার সতর্ক করা হয়েছে যে, এই শহরে লড়াই চলতে থাকলে দারফুরের পাঁচটি প্রদেশজুড়েই মানবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সেনাবাহিনী এবং আরএসএফ-এর মধ্যে চলমান এই যুদ্ধে ২০ হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জাতিসংঘ ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। তবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা অনুযায়ী, এই সংঘাতে নিহতের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার।
