আটকের বিষয়টি ‘গুজব’ দাবি করে সেই ছাত্রদল নেতার লাইভ

আটক হননি বলে দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান সোহান। বহিরাগত হওয়ায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের দিন বৃহস্পতিবার তাকে হল থেকে আটক করে প্রক্টরিয়াল বডির কাছে তুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন হলের প্রভোস্ট।

এ বিষয়ে হাফিজুর রহমানের ভাষ্য, আজকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘ তেত্রিশ বছরের অচলায়তন ভেঙে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কিছুক্ষণ আগে জাকসু নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিছু অনাকাঙিক্ষত ঘটনার সৃষ্টি হয়েছে এবং তা নিয়ে কিছু কুচক্রীমহল বিশেষ করে জামায়াত-শিবিরের বটবাহিনী এটিকে ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করার জন্য এবং তাদের সংশ্লিষ্ট কিছু মিডিয়ার মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে।

বৃহস্পতিবার সকালে সোহানের আটকের খবরটি গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সে বিষয়টি পরিষ্কার করার জন্য লাইভে এসে এসব কথা বলেন।

সোহান বলেন, আমি আসলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন আগে থেকেই জাহাঙ্গীরনগর ক্যাম্পাসে আসা যাওয়ার মধ্যে ছিলাম। আমরা দেখতে ছিলাম কীভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় মনিটরিং করার জন্য আসলে আমার ক্যাম্পাসে পদার্পণ। এটাকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন আগে থেকেই হলে হলে যাতায়াত এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় আমাদের সমাগম ঘটে।

সোহান বলেন, এ ক্ষেত্রে আজকে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে পর্যবেক্ষক কার্ডের জন্য আবেদন করেছিলাম এবং তাদের সঙ্গে কালকে রাতে কথা অনুযায়ী আজকে আমাদেরকে পর্যবেক্ষক কার্ড দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে সকালে আমাদের পর্যবেক্ষক কার্ড আমাদেরকে দেওয়া হয়নি। পরিপ্রেক্ষিতে আমার একটি কার্ড হলে থাকার কারণে আমি সেখানে কার্ডটি আনার জন্য আমি হলে গিয়েছিলাম। যেহেতু আচরণবিধিতে ভোট কেন্দ্রের হলে বা কেন্দ্রে যাওয়া নিষেধ সেহেতু হলের সামনে যাওয়া। এখানে সাবেক শিক্ষার্থী হিসেবে যেহেতু আচরণবিধি ভঙ্গ হয় সেই প্রসঙ্গটি ওঠে আসে এবং আমি আমার অবস্থান সাংবাদিক এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা করি।

‘পরবর্তীতে আমরা প্রভোস্ট স্যারের সঙ্গে আলাপ করে আমরা ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করি। কিন্তু এ বিষয়টিকে কেন্দ্র করে কিছু মিডিয়ায় আটক বা নানা রকমের হল দখল বা নির্বাচন বানচলের পাঁয়তারাসহ বিভিন্ন রকমের গুজব ছড়িয়ে ছাত্রদলকে নিয়ে নির্বাচনের মধ্যে এক ধরনের মব সৃষ্টির প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। যেটি অবিরত চলমান এবং আমারা দেখতে পারছি কিছু পত্রিকা বা কিছু অনলাইন পোর্টাল এটাকে কেন্দ্র করে মব সৃষ্টির প্রচেষ্টা করছে এবং ছাত্রদলের ইমেজকে ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করছে।’

এ সময় সবাইকে এ ধরনের মব সৃষ্টির কাজ থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান এই ছাত্রদল নেতা।

ছাত্রদল নেতার ভাষ্য, সবাইকে আহ্বান জানাব বট বাহিনীর গুজব থেকে আপনারা বিরত থাকব। আমার আটকের বিষয়টি ভুয়া। প্রভোস্ট স্যারের সঙ্গে কথা বলে ক্যাম্পাস থেকে বেরিয়ে আসছি।

বৃস্পতিবার সকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু) নির্বাচন চলাকালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের একটি কক্ষ থেকে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি হাফিজুর রহমান সোহানকে আটকের খবর পাওয়া যায়।

সোহান কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬ ব্যাচের (২০০৬-০৭ শিক্ষাবর্ষ) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন।

অবৈধভাবে হলে অবস্থানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তখন বলেছিলেন, আমি ক্যাম্পাসে এসেছিলাম রাতে। শরীর খারাপ লাগায় এখানে হলে এসে শুয়ে পড়েছি।

আবাসিক হলে অবস্থানের ক্ষেত্রে কোনো অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কিনা, জানতে চাইলে তিনি বলেন, না আমি কোনো অনুমতি নিইনি।

ওই নেতাকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টরিয়াল বডির হাতে তুলে দেওয়া হয়। এ সময় হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বলেন, নির্বাচন চলাকালে আবাসিক হলে সাবেক শিক্ষার্থীদের অবস্থান করা আচরণবিধির লঙ্ঘন। তাই আমরা তাকে প্রক্টরিয়াল টিমের হাতে তুলে দিচ্ছি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, আমরা তাকে আনতে সিকিউরিটি গার্ড পাঠিয়েছি। বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুনঃ