১০ টাকায় ইলিশ দিতে এসে পালিয়ে রক্ষা এমপি প্রার্থীর!

নিজ নির্বাচনী এলাকার গরীব মানুষের মধ্যে মাত্র ১০ টাকা কেজিতে ইলিশ মাছ বিক্রির ঘোষণা দিয়েছিলেন ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা, সদরপুর, চরভদ্রাসন) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী রায়হান জামিল। তাঁর এই ঘোষণায় ব্যাপক সাড়া পড়ে। কিন্তু বিপুল সংখ্যক মাছ প্রত্যাশী চলে আসায় বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। এক পর্যায়ে নিজের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হলে ইলিশ মাছ ফেলে পালাতে হয় এই এমপি প্রার্থীকে!

রায়হান জামিল মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার বিশ্ব জাকের মঞ্জিল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ইলিশ বিক্রির কর্মসূচি দিয়েছিলেন। সেখানে অতিরিক্ত জনতার ভিড় আর হট্টগোল বেঁধে গেলে এই কর্মসূচি ভণ্ডুল হয়।

জানা যায়, রায়হান জামিল মাত্র ১০ টাকা কেজিতে ইলিশ বিক্রির ঘোষণা দিয়ে মাইকিং করেন। এই মাইকিং শুনে বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রায় ১ হাজার মানুষ সেখানে জড়ো হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত মাছ না থাকায় উপস্থিত জনতার মধ্যে হট্টগোল শুরু বেঁধে যায়। একপর্যায়ে জনতার চাপে মাছ রেখে দ্রুত সটকে পড়েন এমপি প্রার্থী রায়হান জামিল।

পরে এমপি প্রার্থী রায়হান জামিল ভাষণচর ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় পৌঁছালে ক্ষুব্ধ জনতা তার গাড়ি আটকে দেয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় স্থানীয় কয়েকজনের সহায়তায় কোনোমতে সেখান থেকে প্রাঁণে রক্ষা পান তিনি।

স্থানীয়রা জানায়, তারা শুনেছে ১০ টাকায় ইলিশ বিক্রি করা হবে। তাই সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু তারা মাছ পায়নি। উল্টো ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। লেগে যায় মারামারি। তখন প্রার্থী নিজেই পালিয়ে যান।

এ বিষয়ে প্রার্থী রায়হান জামিল বলেন, ‘আমি মানুষের উপকারের জন্যই ইলিশ বিতরণের উদ্যোগ নিই। মাছ পেতে আমরা যাদের টোকেন দিয়েছি, তাদের সাথে অনেক লোক এসেছে। তাই সবাইকে দিতে পারিনি। অনাকাঙ্ক্ষিত ভিড় ও বিশৃঙ্খলার কারণে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। নিরাপত্তাজনিত কারণে আমাকে দ্রুত সেখান থেকে সরে আসতে হয়।’

সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় বলেন, ‘এই বিষয়টি নিয়ে আমি আগেই রায়হান সাহেবকে সতর্ক করেছিলাম। তিনি আমাদের কথা না শুনে এ কার্যক্রম চালান। পরে বিশৃঙ্খলার খবর শুনে পুলিশ পাঠিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। পুলিশ যাওয়ায় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা হয়নি।’

আপনার মতামত লিখুনঃ