রাজধানীর উত্তরার তুরাগ এলাকায় কাশবন থেকে উদ্ধার হওয়া নারীর লাশের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, পারিবারিক কলহ ও ঋণের দায় থেকে মুক্তি পেতে ওই নারীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছেন তার স্বামী।
আজ রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে উত্তরা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো. মহিদুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার সকালে রাজউকের ১৭ নম্বর সেক্টরের কাশবন থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ায় জানা যায়, তিনি হলেন বিথী আক্তার বিলকিস (৩৫)। তার মা মনোয়ারা বেগম ক্যান্টনমেন্ট থানায় মেয়ে নিখোঁজের জিডি করেছিলেন এবং পরবর্তীতে তুরাগ থানায় গিয়ে লাশ শনাক্ত করেন।
তদন্তে নামার পর শনিবার রাতে নিহতের স্বামী মো. বাবুল মিয়া (৪৭) এবং সহযোগী মো. সম্রাটকে (২০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে দুজনই হত্যার দায় স্বীকার করেছে।
ঘটনার দিন বাবুল মিয়া অজ্ঞাত নম্বর থেকে স্ত্রীকে ফোন করে ডেকে নেন। তিনি দাবি করেন, ঋণের জন্য সুদের টাকা তুলতে ব্যাংকের চেকবই, এনআইডি ও ছবি লাগবে। এসব কাগজ নিয়ে স্ত্রী বাসা থেকে বের হলেও আর ফেরেননি।
ডিসি মহিদুল ইসলাম জানান, বাবুল প্রথমে পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে চেষ্টা করে। তবে মোবাইল ফোনের লোকেশন বিশ্লেষণে সত্যতা মেলে। পরে কড়া জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল স্বীকার করে, দুই-তিন মাস আগে থেকেই সে স্ত্রী হত্যার পরিকল্পনা করে আসছিল।
তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, মিরপুরের কালাপানি এলাকা থেকে সহযোগী সম্রাটকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি জানান, হত্যার সময় সম্রাট বিলকিসের পা চেপে ধরে রাখে এবং বাবুল শ্বাসরোধে হত্যা করে। ঘটনাস্থলে আরও দুজন সহযোগী উপস্থিত ছিল বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
