দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান বিক্ষোভ কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ আইনসম্মত ছিল কি না, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে দিল্লি হাইকোর্ট। শুনানির সময় আদালত জানতে চেয়েছেন, বিক্ষোভ মোকাবিলায় ভারতের সুপ্রিম কোর্টের নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করা হয়েছে কিনা।
সোমবার অনুষ্ঠিত শুনানিতে প্রধান বিচারপতি ডি. কে. উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ কেন্দ্রের পক্ষে উপস্থিত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতার কাছে এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলেন। আদালত বিশেষভাবে জানতে চান, পুলিশের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ আদালতের গাইডলাইন বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল কি না।
মামলাটি দায়ের করেন জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের সাবেক সভাপতি ঐশী ঘোষ। তার আবেদনে অভিযোগ করা হয়, গত ২০ জুন থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের সময় বিক্ষোভকারীদের নিয়মিত ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হচ্ছে। শুধু সমাবেশ নয়, আন্দোলনকারীদের ব্যক্তিগত মুহূর্ত—যেমন বিশ্রাম, খাবার গ্রহণ কিংবা চিকিৎসা নেওয়ার সময়ও ক্যামেরার আওতায় রাখা হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, নারী আন্দোলনকারীদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। এমনকি প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও তাদের ছবি ও ভিডিও ধারণ অব্যাহত ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এই আন্দোলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগের প্রতিবাদ এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে। আবেদনকারীর মতে, এ ধরনের ধারাবাহিক ভিডিও ধারণ ও পর্যবেক্ষণ নাগরিকের ব্যক্তিগত গোপনীয়তার অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে।
শুনানির সময় আদালতে ২০১৭ সালের সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের বিষয়টিও উঠে আসে। সেই রায়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তাকে সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে মৌলিক অধিকারের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে বলা হয়েছিল, রাষ্ট্রের যেকোনো নজরদারি বৈধতা, প্রয়োজনীয়তা এবং আনুপাতিকতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।
অন্যদিকে, সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আদালতে জানান, বিক্ষোভকারীদের ওপর কোনো বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে না। তার ভাষ্য অনুযায়ী, যন্তর মন্তরে অনুষ্ঠিত সব ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচিই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে ভিডিও ধারণ করা হয়। এটি নিরাপত্তাজনিত একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া, কোনো ব্যক্তিকে নজরদারির উদ্দেশ্যে নয়।
উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য মঙ্গলবার, ২১ জুলাই দিন নির্ধারণ করেছেন।
