দলীয়ভাবে বহিষ্কৃত কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হবে কি না—এমন প্রশ্নে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে প্রাথমিক আইনি অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানিয়েছেন, কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত প্রতিনিধি দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কৃত হলে বিষয়টি আইন অনুযায়ী পর্যালোচনার আওতায় আসবে।
তিনি বলেন, দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের রাজনৈতিক পরিচয় ও সাংবিধানিক অবস্থান সংশ্লিষ্ট দলের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে কোনো দল আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে একজন সংসদ সদস্যকে বহিষ্কার করলে এবং প্রয়োজনীয় দলিল-দস্তাবেজ নির্বাচন কমিশনে পাঠালে, আইন ও সংবিধানের বিধান অনুসারে বিষয়টি মূল্যায়ন করা হবে।
তবে এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে বহিষ্কারসংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক নথি নির্বাচন কমিশনের কাছে পৌঁছেনি বলেও জানান তিনি। তাই এ মুহূর্তে আসন শূন্য ঘোষণা বা উপনির্বাচন নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, কমিশন কোনো অনুমান বা মৌখিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয় না। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে পাওয়ার পর সংবিধান, প্রচলিত আইন ও বিধিমালার আলোকে বিষয়টি পরীক্ষা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে। প্রয়োজন হলে তখন আসন শূন্য ঘোষণা এবং উপনির্বাচনের বিষয়ে কমিশন আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নেবে।
উল্লেখ্য, সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও নৈতিক কারণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা দলটির কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে। এর পর থেকেই তার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
